উচ্চ ফলনশীল সুস্বাদু কচুবিলাসী
 
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত ১৮/২০টিজার্মাপ¬াজমহতে গবেষণার মাধ্যমে বিলাসী নামে একটি উফশী জাত উদ্ভাবন করা হয় এবং ১৯৮৮ অনুমোদনকরা হয় জাতটিবিলাসী গুণে উৎকৃষ্টও উচ্চ ফলনশীলবিলাসী মুখী কচুর জাত
 
মুখী কচু একটি সুস্বাদু সবজিএ সবজি খরিফ মৌসুমেরজন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণবাংলাদেশের সব অঞ্চলেই এর চাষ হয়মুখী কচু বাংলাদেশে গুড়াকচু, কচু, ছড়া কচু, দুলি কচু, বিন্নি কচু ইত্যাদি নামেও পরিচিতমুখীর ছড়া বীজ হিসেবেব্যবহার করা হয়মুখী কচুর গাছ হলদে হয়ে শুকিয়ে গেলে এ কচু তুলতেহয়এতে ৬থেকে ৭ মাস সময় লাগে
 
বিলাসী জাতের গাছ সবুজ, খাড়া, মাঝারি লম্বা, এর মুখী খুবমসৃণ, ডিম্বাকৃতির হয়সিদ্ধ মুখী নরম ও সুস্বাদুসিদ্ধ করলে মুখীসমানভাবে সিদ্ধ হয় ও গলে যায়
 
বিলাসীর জীবনকাল ২১০ থেকে ২৮০ দিনেরসাধারণ অবস্থায় এর ফলনহেক্টরপ্রতি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টনউন্নত পদ্ধতিতে চাষ করলে হেক্টর প্রতি ৪০ টন পর্যš- ফলন হয়েথাকে
 
দো-আঁশ মাটি এই জাতের জন্য উত্তম
 
রোপণের সময় : মধ্য মাঘ থেকে মধ্য ফালগুনমধ্য চৈত্র থেকে মধ্যবৈশাখ
 
রোপণ পদ্ধতি : উর্বরা মাটির জন্য সারি থেকে সারির দূরত্ব ৭৫সেঃ মিঃ গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৪৫ সেঃ মিঃঅনুর্বর মাটির বেলায় সারি থেকে সারির দূরত্ব ৬০সেঃ মিঃ এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৪০ সেঃ মিঃ রাখতে হয়
 
বীজরে পরিমাণ : ২ থেকে ২.৫ গ্রাম (প্রতি শতাংশে এবং ছড়ার ওজন১৫ থেকে ২০ গ্রাম)
 
বীজ বপনের গভীরতা : ৮ থেকে ১০ সেঃ মিঃ
 
উৎপাদন :১০০ থেকে ১২০ কেজি (প্রতি শতাংশে)
 
সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি :
 
গোবর/কম্পেস্ট সার ১০ কেজি, ইউরিয়া ৪০০গ্রাম, টিএসপি ৫০০ গ্রাম, এমওপি ৪০০ গ্রাম, জিপসাম ২০গ্রাম, জিং ৫গ্রাম
 
গোবর, টি এসপি এবং এমওপি রোপণের সময় এবং ইউরিয়া ৪০ থেকে ৪৫ দিন পরপ্রয়োগ করা ভাল
 
š-র্বর্তীকালীন পরিচর্যা :
 
১. সার উপরি প্রয়োগের পর গাছের গোড়ার মাটি টেনে দিতেহবেজমিআগাছা মুক্ত করা, খরার সময় প্রয়োজনে সেচ দেওয়া এবং অতি বৃষ্টিতে পানিনিস্কাশনের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন
 
২. মুখী কচু মাটির নিচে হয় বলে মাটি ঝুরঝুরা রাখাবাঞ্চনীয়
 
৩. গাছের গোড়া মালচিং এর মাধ্যমে ঢেলে দিলে গুড়ি চারার সংখ্যাকমে আসে তাতে ছড়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়
 
৪. গাছের পাতা ছোট হয়ে হলুদ বর্ণ ধারণ করলে ফসল সংগ্রহ করাউচিত
 
মুখী কচু চাষাবাদ করতে গিয়ে কোন সমস্যায় পড়লে আপনি কৃষি¤প্রসারণঅধিদপ্তরে কর্মরত নিকটস্থ উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ গ্রহণ করতেপারেন
 
-কৃষিবিদ মো ঃ আজিজুল হক চৌধুরী