কৃষিতে বছরে আয় ৩০ লক্ষটাকা
Posted by Nurjahan Chowdhury on Saturday, January 2, 2010
Under: সফলতা,স্বাবলম্বী
|
কৃষিতে বছরে আয় ৩০ লক্ষটাকা
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাগাবলা ইউনিয়নের রামপুরগ্রাম।এগ্রামের আব্দুল আজিজ টাকার জন্য এক সময় লন্ডনে থাকতেন।পাশাপাশি শ্রীমঙ্গল শহরেপর্যটকদের জন্য টি-টাউন রেস্ট হাউজ নির্মাণ করে রেষ্ট হাউস ব্যবসায় একনিষ্ঠভাবেজড়িত ছিলেন।কিন্তু অযতেœ অবহেলায় দেশের মাটিতে পড়েছিল তার পৈত্রিক অনেক অনাবাদিজমি।একটাসময় তিনি অনুভব করলেন পতিত জমি কীভাবে কাজে লাগানো যায়।সময়টা ছিল ৪ থেকে ৫বছরপূর্বে।দেশের মাটিতে এসে মাটির সদব্যবহারের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েনতিনি।আব্দুলআজিজ স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে তার পতিত জমিতে ভিত্তি বীজ (মাদার সীড) চাষেরপ্রদক্ষেপ নেন এবং প্রথম বছরই তিনি উৎপাদনেসফল হন।সফলতার অগ্রযাত্রায় এক পর্যায়ে সরকারই তার কাছ থেকে ভিত্তিবীজ কিনে সংরক্ষণ করে রাখে।এরপর থেকে তার উৎসাহবেড়ে যায়।নেশা জন্মে যায় কৃষি কাজে।বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে সংগ্রহ করতে থাকেন একেরপর এক নতুন ফর্মূলা।ফর্মূলা বাস্তবায়নে সর্বশেষ তিনি এ বছর জৈব সার ব্যবহার করেবিগত বছরগুলোর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বেশি ফলন পান।তিনি জানান, বিগত সময়ে কিয়ার প্রতি ২১শ টাকার সার ব্যবহারকরে যে ফলন পেয়েছেন এ বছর জৈব সার ব্যবহার করে ফলন হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ।শ্রীমঙ্গল টি-টাউন রেষ্টহাউসের স্বত্ব্যাধিকারী আব্দুল আজিজ প্রথম বৃহৎআকারে ভিত্তি বীজউৎপাদনেমৌলভীবাজার জেলায়অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।তিনি একই সাথে বীজ ধান, সৃজনাল সবজি চাষ, বিভিন্ন প্রজাতিরফলজ, বনজ ওঔষধি গাছের বাগান করে প্রায় শতাধিক বেকার লোকের কাজেরও সুযোগ করেদিয়েছেন।এসকল খামার থেকে তিনি বছরে আয় করছেন ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা।তাঁর সংগ্রহে প্রায়আড়াইশ প্রজাতির গাছ রয়েছে।এর মধ্যে বাউকুল, আপেল কুল, ঢাকাইয়া ত্রিবিড় বড়ই, সুবর্ণা আম, পাকিস্তানী বারমাসীআম, বোম্বেআম, রাজশাহীআমড়া, থাইলেন্ডী বারমাসী আমড়া, ছাতিকী কমলা, থাইলেন্ডী জাম, তিন প্রজাতিরপেয়ারা, বারমাসী কাঁঠাল, ভাওয়ালী কাঁঠাল, সাতকড়া, আগর গাছ, থাইলেন্ডীনারকেল, দেশিনারিকেল, সুপারী, বারমাসী জাম্বুরা, আঙুর, কাগজী লেবু, কুয়েতী খেজুর, লাম্বু গাছ, চামল, সেগুন, একাশী, মেহগনি, শিল কড়ই, তেজপাতা, নিম, আমলকি, হরতকি, লুকলুকি, জলপাই, কদম, তেঁতুল, দারুচিনিসহ আরওশতাধিক।
এবারে তার উৎপাদিতধানের জাতগুলো হলবি. আর-১১ ও ৩৪, নাজির শাইল, কালা বিড়ইন, সাদা বিড়ইন।তাঁর এ বাম্পার ফলনে উৎফুল¬ এলাকাবাসী।আব্দুল আজিজের সাফল্যদেখে অনেকেই আগামী মৌসুমে জৈব সার ব্যবহারের চিন্তা করছেন।
বিগত বছরে তিনি ২ হাজার মণ বীজ ধান উৎপাদনকরেছেন।তার এই উৎপাদনেব্যয় হয়েছিল ৬ লক্ষটাকা।এ ধানবিক্রি করেছেন ২১ লক্ষ টাকা।এতে তার লাভ হয়েছে ১৫ লক্ষ টাকা।এর মধ্যে সরকারই তার কাছথেকে কিনে নিয়েছেন এক হাজার মণ ধান।যা সরকারের সংরক্ষণে রয়েছে।চলমান মৌসুমেও তাঁরউৎপাদনেরলক্ষমাত্রা ছাড়িয়েগেছেন।ইতিমধ্যে তিনি প্রায় এক হাজার মণ বীজ ধান উৎপাদনকরেছেন।আব্দুল আজিজ আশা করছেন, একই জায়গায় আরও প্রায় আড়াই হাজার মন ধানউৎপাদনকরা সম্ভবহবে।এছাড়াওতিনি তার পতিত জমিতে সৃজনাল সবজি চাষ করে বছরে প্রায় ২ লক্ষ টাকা আয়করেন।এসবকিছুর পাশাপাশি তিনি তার বাড়ির আশেপাশে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষসহপ্রায় শতাধিক প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করেছেন।
-বিকুল চক্রবর্ত্তী, মৌলভীবাজার |
In : সফলতা,স্বাবলম্বী