দুধে নির্ভরতা: দৃষ্টান্ত হতে পারেহাইতি
Posted by Nurjahan Chowdhury on Thursday, December 31, 2009
Under: মন্তব্য প্রতিবেদন
|
দুধে নির্ভরতা: দৃষ্টান্ত হতে পারেহাইতি
হাইতির রাজধানী পোর্ট অব প্রিন্স-এর আশপাশের এলাকাগুলোতেজনসাধারণ বেঁচে থাকার জন্য অবর্ণনীয় সংগ্রাম করে যাচ্ছে।সেখানে মানুষ কাদার তৈরিপিঠা খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছে।কাদা প্রখর রোদে শুকিয়ে পিঠা তৈরি করে সেগুলোতেপ্রচুর পরিমাণে খনিজ ও খাদ্য উপাদান আছে বলে বিশ্বাস করছে এবং সেগুলো খেয়ে যাচ্ছেদিনের পর দিন।কিন্তু যেভাবেই হোক খাবারের এই উৎসটিনিয়ে এখানকার মানুষ বেশ আশানি^ত।কিন্তু এর বাইরেও একটিআশা নতুন করে জেগে উঠেছে তা হল জাতীয় পর্যায়ে সমবায়ের মাধ্যমে সব হাইয়ানদের প্রিয়পানীয় দুধ উৎপাদনও সরবরাহের ব্যবস্থাএবং তাও জনসাধারণের নাগালের মধ্যে রেখেই।২০০৮ সালের খাদ্য নিয়ে সহিংসতার পর দেশটিরপ্রেসিডেন্ট রেনে প্রিভাল শিশুসহ সকল জনসাধারণের অš-ত একটি পুষ্টিকর সাধারণখদ্যেও সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এই উদ্যোগ নেন।দূরদর্শী এই সিদ্ধাš- ইতোমধ্যেই সুফল বয়েআনতে শুরু করেছে। হাইতি এর চাহিদার তিন চতুর্থাংশ খাদ্য বাইরে থেকে আমদানি করেযার মধ্যে চালের পরপরই দুধ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে।ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবংকানাডা থেকে প্রতি বছর অš-ত ৪০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের দুধ আমদানি করে এ দেশটি।প্রতি লিটার দুধ প্রায়আড়াই ডলার মূল্য হওয়ার কারণে হাইতির সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকে।কারণ এখানকার অধিকাংশজনসাধারণ দিনে এক ডলারের কম আয় করে।
কিন্তু লেট অ্যাগোগো নামের এই উদ্যোগ ছোট ছোট দুগ্ধ খামারেরমাধ্যমে দেশীয় বাজারে প্রতিযোগিতা জন্য একটি নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টাচালাচ্ছে।এইউদ্যোগ ২০০২ সালে নেয়া হলেও বর্তমানে প্রতি ১৪ টি খামার ১৫০-৪০০ লিটার দুধউৎপাদনকরে এবং এর দশটিইদীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছে যদিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দেশটিতে শীতলায়নএবং সুবিন্য¯- বিদ্যুৎ-কাঠামো নেই।কিছু কিছু খামার দুধগাজানোর মাধ্যমে ইয়োগহার্ট নামের স্থানীয় মদ তৈরি করছে।সামনের মাসগুলোতেউৎপাদিতদুধের দশ শতাংশ পনিরতৈরির কাজে ব্যবহার করা হবে।
লেট অ্যাগোগো শ্রেণীভূক্ত খামারগুলো স্থানীয় ব্যবসায়ী এবংকৃষকদের মাধ্যমে পরিচালিত এবং বিনিয়োগও করছে তারাই।প্রত্যেক খামারে দশজনকর্মী থাকবে যারা ৫০ থেকে ১৫০ জন স্থানীয় কৃষকের ওপর নির্ভর করবে দুধ বিক্রিজন্য।প্রকল্প গঠনে অবদান রাখা হাইতির কৃষিমন্ত্রী মিশেল কাঞ্চিবলেন, ‘‘প্রত্যেক খামারের এক-একটি নিজস্ব গল্প আছে, অনেক খামারই গঠন করাহয়েছে সেখানকার স্থানীয় তরুণ এবং কৃষক-সš-ানের বিনিয়োগেগঠিত।কোনটিস্থানীয় সমবায়ী কৃষকদের উদ্যোগে গঠন করা হয়েছে।কিছু কিছু গঠিত হয়েছে স্থানীয় এনজিও অথবা সরকারিপ্রকল্পের মাধ্যমে।
এই উদ্যোগের সাথে আছে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ এবংপ্রশিক্ষণ ব্যবস্থা।সাফল্যের হার দেখে কৃষিমন্ত্রী কাঞ্চি আশা করছেন ২০০৯ সালেরমধ্যে খামারের সংখ্যা অš-ত দ্বিগুণ হয়ে যাবে।আর এভাবে সারা দেশে যদি খামার বাড়তে থাকে তাহলেএকসময় দুধের পেছনে এই ব্যয় কমে চলে আসবে স্ব-নির্ভরতা।আর এক পর্যায়ে হয়তোহাইতি চলে আসবে দুধ রফতানিকারক দেশগুলোর কাতারে।
হাইতির এই ঘটনা বাংলাদেশের জন্য একটি দৃষ্টাš- হতে পারে।দুধ নিয়ে বাংলাদেশসহসারা বিশ্বে যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে সেই প্রেক্ষিতে এ রকম একটি উদ্যোগ আমাদের জন্যহতে পারে আশীর্বাদ।আমাদের দেশে যে এ রকম উদ্যোগ সফল করা সম্ভব তা ইতোমধ্যেপ্রমাণিত।দেশে বিভিন্ন দুগ্ধ সমবায়ী প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করা হলে দুধেরপ্রশ্নে আমরা আরও একটু নিরুদ্বেগ হতে পারি।আর আমাদের ভবিষ্যৎবংশধর পেতে পারে পুষ্টিরনিশ্চয়তা।
-মাজহার মিলন |
In : মন্তব্য প্রতিবেদন